ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মুদাফফরগঞ্জের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলমের ইন্তেকাল, আগামীকাল জানাজা লাকসামে ভূমিদস্যুদের থাবা !! বালি ভরাটকরে সড়ক বিভাগের জায়গায় দখল লাকসাম পৌরসভা নির্বাচনে সংসদ সদস্যের সমর্থন ও সহযোগিতা চাইলেন -আলহাজ্ব মজির আহমেদ লাকসাম সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনগুলো যেন ‘‘ ভূতের বাড়ি “ বাংলাদেশের সকল সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত লাকসামে শাহ ছুফি আবুল বারাকাত পীর ছাহেব (রহ .) এর ৩৮ তম ওফাত দিবস অনুষ্ঠিত একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি দয়া বা অনুগ্রহ নয়, পিতা-মাতার ভরণপোষণ সন্তানের ধর্মীয় আইনি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব আবুল কালাম পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত, কুমিল্লা-৯ আসনে ব্যাপক উল্লাস লাকসামে গ্রাম্য আদালত সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা

চার্জশিটে উঠে এলো শিশু রামিসা হত্যা’র ভয়ঙ্কর যেসব তথ্য

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় : ০৩:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রাজধানী মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
 অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন।

পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে গতকাল অভিযোগপত্রটি জমা দেন। শুনানির পর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর আলামত নষ্ট করে। সোহেলকে বাঁচাতে মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আলামত নষ্টে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (২৬)।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পেশায় অটোরিকশা মেকানিক সোহেল গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তিনি জানান, সাবলেটের অন্য সদস্যরা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর সকালে তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন।

জবানবন্দিতে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার রামিসাকে দেখতে পেয়ে সোহেল তাকে ডেকে নেন। শিশুটি ঘরে এলে সে তাকে বাথরুমে নিয়ে যান। রামিসা চিৎকার করলে সোহেল তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে ধর্ষণ করেন।

শিশুটির জ্ঞান হারালে মারা গেছে বলে ধরে নেন সোহেল। এরপর প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকে রামিসার মৃত্যু হয়। তার শরীরের সব ক্ষত ছিল মৃত্যুপূর্ববর্তী বা বেঁচে থাকাকালীন।

সোহেলের জবানবন্দিতে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহও উঠে এসেছে। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবাই যখন রামিসাকে খুঁজছিল, তখন তার মা আমার ঘরের সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান। তিনি রামিসাকে ডাকতে থাকেন। কোনো সাড়া না পেয়ে লোকজন আমার দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করে।

তিনি আরও জানান, ‘আমার স্ত্রী আমাকে পালিয়ে যেতে বলে। আমি রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলি। লোকজন যখন দরজায় সমানে ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন আমার স্ত্রী দরজা চেপে ধরে রেখে আমাকে পালাতে সাহায্য করে।’

এছাড়া সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পরই তার স্ত্রী দরজা খুলে দেয় বলে জবানবন্দিতে জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চার্জশিটে উঠে এলো শিশু রামিসা হত্যা’র ভয়ঙ্কর যেসব তথ্য

আপডেট সময় : ০৩:৪০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
রাজধানী মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
 অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন।

পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে গতকাল অভিযোগপত্রটি জমা দেন। শুনানির পর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানা (৩০) রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার পর আলামত নষ্ট করে। সোহেলকে বাঁচাতে মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আলামত নষ্টে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (২৬)।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, পেশায় অটোরিকশা মেকানিক সোহেল গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তিনি জানান, সাবলেটের অন্য সদস্যরা কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর সকালে তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন।

জবানবন্দিতে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার রামিসাকে দেখতে পেয়ে সোহেল তাকে ডেকে নেন। শিশুটি ঘরে এলে সে তাকে বাথরুমে নিয়ে যান। রামিসা চিৎকার করলে সোহেল তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে ধর্ষণ করেন।

শিশুটির জ্ঞান হারালে মারা গেছে বলে ধরে নেন সোহেল। এরপর প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকে রামিসার মৃত্যু হয়। তার শরীরের সব ক্ষত ছিল মৃত্যুপূর্ববর্তী বা বেঁচে থাকাকালীন।

সোহেলের জবানবন্দিতে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহও উঠে এসেছে। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সবাই যখন রামিসাকে খুঁজছিল, তখন তার মা আমার ঘরের সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান। তিনি রামিসাকে ডাকতে থাকেন। কোনো সাড়া না পেয়ে লোকজন আমার দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করে।

তিনি আরও জানান, ‘আমার স্ত্রী আমাকে পালিয়ে যেতে বলে। আমি রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলি। লোকজন যখন দরজায় সমানে ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন আমার স্ত্রী দরজা চেপে ধরে রেখে আমাকে পালাতে সাহায্য করে।’

এছাড়া সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পরই তার স্ত্রী দরজা খুলে দেয় বলে জবানবন্দিতে জানানো হয়।