লাকসামে নিজ ঘর থেকে ফিল্মি স্টাইলে কিশোরীকে অপহরণ ।। ৪০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা।
- আপডেট সময় : ১২:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার লাকসামে ফিল্মি স্টাইলে কিশোরী তাহমিনা আক্তার স্মৃতিকে (১৬) নিজ ঘর থেকে অপহরণ। ৪০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা।
অপহৃত কিশোরী তাহমিনা আক্তার স্মৃতি লাকসাম উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের হারাখাল গ্রামের প্রবাসী আলম মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় গণউদ্যোগ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত মো. মাসুদ (৩২) ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপহৃত তাহমিনা আক্তার স্মৃতির সঙ্গে অভিযুক্ত মো. মাসুদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে মাসুদ স্মৃতিকে নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনার পর স্মৃতির পরিবারের পক্ষ থেকে লাকসাম থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ দিন পর তাকে উদ্ধার করে এবং অপহরণের দায়ে মো. মাসুদকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক কিশোরী স্মৃতিকে পরিবারের জিম্মায় দিয়ে অপহৃত মাসুদকে কারাগারে পাঠান।
৮-১০ দিন আগে মাসুদ জামিনে জেল থেকে বের হন। সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার দলবল নিয়ে স্মৃতির বাড়িতে হামলা চালান। এক পর্যায়ে ঘরের প্রধান ফটক ভেঙে এবং চালের ওপর দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে তার মা-বাবাকে মারধর করে রুমের মধ্যে আটকে রাখেন। পরে দ্বিতীয় তলা থেকে ফিল্মি স্টাইলে স্মৃতিকে নিচে নামিয়ে আনেন। এসময় ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও লুট করা হয়।
এ ঘটনার ৩৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ডুপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে এক তরুণীকে কাঁধে করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন যুবক। এসময় বাড়ির আঙিনা ও ভবনের আশপাশে বহু মানুষের সমাগম ছিল।
অপহৃত কিশোরীর বাবা আলম মিয়া বলেন, এর আগেও মাসুদ আমার মেয়েকে একবার অপহরণ করে। পরে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে ১৭ দিন পর তাকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাতে সে আবারও গুন্ডা বাহিনী নিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় আমাদের ব্যাপক মারধর করা হয়। ঘরে থাকা নগদ ১৭ লাখ টাকা এবং ৩০ ভরি সোনা এবং আমার মেয়েকে নিয়ে যায়। আমার বাড়িতে ৮টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। তাদের সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ক্যামেরায় রেকর্ড রয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে দ্রুত আমার মেয়েকে উদ্ধার করে দেন এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনুন।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে এ ঘটনায় কিশোরীর মা কুসুম বেগম বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী সাপ্তাহিক লাকসামকে বলেন, অপহরণের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।













