কোনো ছাড় নাই কিশোর গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত চলবে অভিযান —-পুলিশ সুপার, কুমিল্লা
- আপডেট সময় : ০২:৪১:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধ করা গেলে কুমিল্লা শহরসহ পুরো জেলার মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে। এদের নির্মূল না করা পর্যন্ত চলবে বিরতিহীন অভিযান। বলেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
২৮ অক্টোবর কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নাগরিক সেবা সহজ করণ, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবায় জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু করা ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার এ কথা বলেন।
কিশোর গ্যাংয়ের কারণে ছিনতাই, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ হচ্ছে । বিভিন্ন মামলার এজাহার ও অপরাধের ধরন পর্যালোচনা করে এসব অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন উল্লেখ করে কুমিল্লা’র পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন , এ জন্য আমরা এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে, এদের নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান কন্টিনিউয়াস থাকবে এবং আমরা এই অভিযানের কোনোভাবেই বিরতি দেবনা।
মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে আমরা ছাড় দেব না। অভিভাবকদের বলা হচ্ছে, সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে না রাখতে। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় নাই । কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং নিয়ে পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে । যেসব এলাকায় গ্যাংয়ের সদস্যরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হচ্ছে।
কিশোর অপরাধের পেছনে যদি কোনো বড় ভাই বা অভিভাবক থেকে থাকেন, তাঁকেও আমরা নিশ্চিত আইনের আওতায় নিয়ে আসব।
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে কাউকে আটকের পর পুলিশের পক্ষ থেকে হয়রানি বা পুলিশের কোনো সদস্য টাকা নেওয়ার একটা প্রমাণ দিতে পারলে ওই পুলিশ অফিসারকে তাৎক্ষণিক সাসপেন্ড করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারেও এক ফোঁটা ছাড় নাই।
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর।
১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ বলেছে, ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম হত্যা মামলার পরে আমরা টোটাল কিশোর গ্যাংয়ের একটি তালিকা তৈরিকরে ২৩ সেপ্টেম্বর অভিযান একযোগে পুরো কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানায়।
২৩ সেপ্টেম্বরের ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ১৮ থানায় আরেক দফা অভিযান চালানো হয়। ওই অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং-সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ সুপার।
২৭ সেপ্টেম্বর রাতেও ১৮ থানায় অভিযান চালানো হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার জানান, রাত শেষে ৪৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের ২৭৭ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের যারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে, তাদেরকেও গ্রেপ্তার আছে এবং তাদেরকে আমরা মামলা দিয়ে চালান দিচ্ছি। অভিযানে আটক যেসব শিক্ষার্থী বা কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়, তাদের যাচাই-বাছাই করে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে এবং মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া কিশোরদের বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।









