আচার খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ,লুটপাট আঞ্চলিক মহাসড়কে আগুন ২০ জন আহত
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নাথেরপেটুয়া রেলস্টেশন বাজারে আচার খাওয়াকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়া বিক্ষুব্ধ জনতা কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ায় দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।




বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মনোহরগঞ্জের হাতীমারা ও নাঙ্গলকোটের পুজকরা গ্রামের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে নাথেরপেটুয়া রেলস্টেশন বাজারে হাতীমারা গ্রামের এক নারীর কাছে পুজকরা গ্রামের এক আচার বিক্রেতা আচার খাওয়ার প্রস্তাব দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওই নারীর স্বামী আচার বিক্রেতাকে মারধর করেন। এই ঘটনার জের ধরেই বৃহস্পতিবার সকালে উভয় গ্রামের শত শত লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষের সময় নাঙ্গলকোটের একটি মিলফ্যাক্টরি ও তিনটি দোকানঘর এবং হাতীমারা গ্রামের দুটি দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। সংঘর্ষে হাতীমারা গ্রামের পারভেজ ও পুজকরা গ্রামের রাকীবসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হন।
উত্তেজিত জনতা সংঘর্ষ চলাকালীন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে টায়ার ও খড়কুটোয় আগুন জ্বালিয়ে একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় এবং সড়ক অবরোধ করে। দির্ঘক্ষন আঞ্চলিক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
পুঁজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ৪০-৫০ জনের একটি অস্ত্রধারী দল এসে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এ সময় কারখানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। বিভিন্ন বাড়িঘর ও দোকানে লুটপাট চালায়। কারখানায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং অফিস ভাঙচুর করে। বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে পুঁজকরা গ্রামের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে হাতিমারা গ্রামের জামাইর দোকান এলাকার ব্যবসায়ী রুবেল অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পুঁজকরা গ্রামের লোকজন খারাপ কথা বলেন। পরে তারা প্রতিবাদ করলে বৃহস্পতিবার সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুঁজকরা গ্রামের লোকজন তাদের বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে হাতিমারা গ্রামের ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। তারা লাকসামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।










