ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দয়া বা অনুগ্রহ নয়, পিতা-মাতার ভরণপোষণ সন্তানের ধর্মীয় আইনি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব আবুল কালাম পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত, কুমিল্লা-৯ আসনে ব্যাপক উল্লাস লাকসামে গ্রাম্য আদালত সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা লাকসাম পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ডা: নুরুল্লাহ রায়হানকে ফুলেল শুভেচ্ছা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হলেন লাকসামের এমপি পুত্র ইয়াছির মোহাম্মদ ফয়সাল  কিডনী রোগে আক্রান্ত রহমত উল্যাহ’র জন্য সহযোগীতা কামনা ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বারা বাঁধে !! বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও কলাপাড়া উপজেলার কাউছার হামিদ ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে এসআই ক্লোজড পুলিশের কার্যক্রম জোরদারে ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ কিনছে সরকার

শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত নীরব ঘাতক অনলাইন জুয়ার ভয়াল ছোবলে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম

নুরউদ্দিন জালাল আজাদ :
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে আইনের পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেমিনার, গ্রামে উঠান বৈঠক আয়োজন করে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে। গণমাধ্যম, টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। অবসর সময়ে তরুণদের ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতিমুখী করতে হবে।

তরুণ ও যুব সমাজে নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের আসক্তির পাশাপাশি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে সময়ের নীরব ঘাতক, অনলাইন জুয়া। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত এর বিস্তার এখন মহামারির রূপ নিয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় এই জুয়ার থাবা সমাজের প্রায় সব স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে অজান্তেই একটি পুরো প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাসাবাড়ি, বাস-ট্রেন, ফুটপাত, রিকশা গ্যারেজ, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা-বাণিজ্য, এমন স্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেখানে অনলাইন জুয়ার উপস্থিতি নেই । স্মার্টফোনে একটি অ্যাপ ডাউনলোড কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে আসা লোভনীয় বিজ্ঞাপন, মুহূর্তেই একজন মানুষ জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে কম শিক্ষিত ও অল্প আয়ের মানুষ এতে বেশি আসক্ত হচ্ছেন। অনেকে এটিকে সহজ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম মনে করে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। অনলাইনে বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ক্রিকেট লিগ, ফুটবল লিগ, এমনকি আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কেন্দ্র করেও চলছে ভয়ংকর জুয়া। ক্রিকেটে বলে বলে চার-ছক্কা, উইকেট পড়া, ওভার সংখ্যা কিংবা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নিয়েও বাজি ধরা হচ্ছে। ফুটবলে গোল হবে কি না, কোন দল জিতবে—এসব নিয়েও লাখ লাখ টাকার জুয়া চলছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম চালু হচ্ছে, যেগুলো শুরুতে ‘ফ্রি বোনাস’, ‘ডাবল রিটার্ন’ কিংবা ‘নিশ্চিত জেতার সুযোগ’-এর মতো অফার দিয়ে তরুণদের প্রলুব্ধ করছে। কেউ প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা, কেউবা মাসে লাখ টাকার বেশি জুয়ায় নষ্ট করছেন। অনেকে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে তারা শুধু নিজের জীবনই নয়, পরিবারকেও পথে বসাচ্ছেন। জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে মাদকাসক্তি কিংবা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। সংবাদমাধ্যমে নিয়মিতই এসব নেশার কারণে খুন, আত্মহত্যা ও সংসার ভেঙে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। অনলাইন জুয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু সময়মতো নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নজরদারি না থাকায় এটি এখন সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়মিত নতুন নতুন অ্যাপ তৈরি করে তরুণদের জুয়ায় আকৃষ্ট করছে এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই জুয়ার খেলায় প্রকৃতপক্ষে কেউই জেতে না। প্রতারক চক্র কৌশলে তাদেরই কিছু লোককে জিতিয়ে দেখিয়ে অন্যদের প্রলুব্ধ করে। হেরে যাওয়ার পর জেতার নেশা মানুষকে আরও গভীরে ঠেলে দেয়। একসময় এই নেশা জীবনধ্বংসী আসক্তিতে পরিণত হয়। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনলাইন জুয়া প্রচারে শোবিজ ও ক্রীড়াঙ্গনের কয়েকজন তারকাকেও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তৈরি করা এসব বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। তারকাদের কথায় ভক্ত ও সাধারণ মানুষ সহজেই প্রলুব্ধ হয়ে জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। এমনকি অনেক বিজ্ঞাপন অশ্লীল সাইটেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সমাজের জন্য আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বেকার তরুণ সমাজ দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় অনলাইন জুয়ায় নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে। কেউ চড়া সুদে টাকা ধার করে, কেউ সংসারের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে, কেউ জমি বন্ধক রেখে জুয়া খেলছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এখনই জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংঘবদ্ধ জুয়া চক্র শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, এমন আইন প্রণয়ন জরুরি যা জামিন অযোগ্য হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ওপরমহলের প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আইনের পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক আয়োজন করে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে। গণমাধ্যম, টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করতে হবে। অবসর সময়ে তরুণদের ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতিমুখী করতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে যুগোপযোগী উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের জন্য বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা জরুরি। সমন্বিত ও আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সময়ের এই নীরব ঘাতক থেকে সমাজকে অন্তত কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব হবে। না হলে অনলাইন জুয়ার ভয়াল ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাবে একটি প্রজন্ম, যার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না কারও।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত নীরব ঘাতক অনলাইন জুয়ার ভয়াল ছোবলে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম

আপডেট সময় : ০২:১৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

 

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জরুরি ভিত্তিতে আইনের পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেমিনার, গ্রামে উঠান বৈঠক আয়োজন করে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে। গণমাধ্যম, টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। অবসর সময়ে তরুণদের ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতিমুখী করতে হবে।

তরুণ ও যুব সমাজে নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের আসক্তির পাশাপাশি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে সময়ের নীরব ঘাতক, অনলাইন জুয়া। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত এর বিস্তার এখন মহামারির রূপ নিয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ায় এই জুয়ার থাবা সমাজের প্রায় সব স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ এই ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। ফলে অজান্তেই একটি পুরো প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাসাবাড়ি, বাস-ট্রেন, ফুটপাত, রিকশা গ্যারেজ, কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা-বাণিজ্য, এমন স্থান খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেখানে অনলাইন জুয়ার উপস্থিতি নেই । স্মার্টফোনে একটি অ্যাপ ডাউনলোড কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে আসা লোভনীয় বিজ্ঞাপন, মুহূর্তেই একজন মানুষ জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে কম শিক্ষিত ও অল্প আয়ের মানুষ এতে বেশি আসক্ত হচ্ছেন। অনেকে এটিকে সহজ উপায়ে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম মনে করে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। অনলাইনে বিভিন্ন জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ক্রিকেট লিগ, ফুটবল লিগ, এমনকি আন্তর্জাতিক ম্যাচকে কেন্দ্র করেও চলছে ভয়ংকর জুয়া। ক্রিকেটে বলে বলে চার-ছক্কা, উইকেট পড়া, ওভার সংখ্যা কিংবা নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স নিয়েও বাজি ধরা হচ্ছে। ফুটবলে গোল হবে কি না, কোন দল জিতবে—এসব নিয়েও লাখ লাখ টাকার জুয়া চলছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম চালু হচ্ছে, যেগুলো শুরুতে ‘ফ্রি বোনাস’, ‘ডাবল রিটার্ন’ কিংবা ‘নিশ্চিত জেতার সুযোগ’-এর মতো অফার দিয়ে তরুণদের প্রলুব্ধ করছে। কেউ প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা, কেউবা মাসে লাখ টাকার বেশি জুয়ায় নষ্ট করছেন। অনেকে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে তারা শুধু নিজের জীবনই নয়, পরিবারকেও পথে বসাচ্ছেন। জুয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে মাদকাসক্তি কিংবা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। সংবাদমাধ্যমে নিয়মিতই এসব নেশার কারণে খুন, আত্মহত্যা ও সংসার ভেঙে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। অনলাইন জুয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু সময়মতো নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর নজরদারি না থাকায় এটি এখন সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়মিত নতুন নতুন অ্যাপ তৈরি করে তরুণদের জুয়ায় আকৃষ্ট করছে এবং বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই জুয়ার খেলায় প্রকৃতপক্ষে কেউই জেতে না। প্রতারক চক্র কৌশলে তাদেরই কিছু লোককে জিতিয়ে দেখিয়ে অন্যদের প্রলুব্ধ করে। হেরে যাওয়ার পর জেতার নেশা মানুষকে আরও গভীরে ঠেলে দেয়। একসময় এই নেশা জীবনধ্বংসী আসক্তিতে পরিণত হয়। উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনলাইন জুয়া প্রচারে শোবিজ ও ক্রীড়াঙ্গনের কয়েকজন তারকাকেও ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তৈরি করা এসব বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। তারকাদের কথায় ভক্ত ও সাধারণ মানুষ সহজেই প্রলুব্ধ হয়ে জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন। এমনকি অনেক বিজ্ঞাপন অশ্লীল সাইটেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সমাজের জন্য আরও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বেকার তরুণ সমাজ দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় অনলাইন জুয়ায় নিজেকে জড়িয়ে নিচ্ছে। কেউ চড়া সুদে টাকা ধার করে, কেউ সংসারের স্বর্ণালংকার বিক্রি করে, কেউ জমি বন্ধক রেখে জুয়া খেলছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এখনই জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংঘবদ্ধ জুয়া চক্র শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, এমন আইন প্রণয়ন জরুরি যা জামিন অযোগ্য হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে ওপরমহলের প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। আইনের পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক আয়োজন করে অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে হবে। গণমাধ্যম, টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করতে হবে। অবসর সময়ে তরুণদের ক্রীড়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতিমুখী করতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে যুগোপযোগী উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের জন্য বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা জরুরি। সমন্বিত ও আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া গেলে সময়ের এই নীরব ঘাতক থেকে সমাজকে অন্তত কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব হবে। না হলে অনলাইন জুয়ার ভয়াল ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাবে একটি প্রজন্ম, যার দায় এড়ানোর সুযোগ থাকবে না কারও।