ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দয়া বা অনুগ্রহ নয়, পিতা-মাতার ভরণপোষণ সন্তানের ধর্মীয় আইনি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব আবুল কালাম পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত, কুমিল্লা-৯ আসনে ব্যাপক উল্লাস লাকসামে গ্রাম্য আদালত সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা লাকসাম পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ডা: নুরুল্লাহ রায়হানকে ফুলেল শুভেচ্ছা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হলেন লাকসামের এমপি পুত্র ইয়াছির মোহাম্মদ ফয়সাল  কিডনী রোগে আক্রান্ত রহমত উল্যাহ’র জন্য সহযোগীতা কামনা ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বারা বাঁধে !! বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও কলাপাড়া উপজেলার কাউছার হামিদ ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে এসআই ক্লোজড পুলিশের কার্যক্রম জোরদারে ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ কিনছে সরকার

কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কৃষকদলের নেতা নিহত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ কিশোর আটক

অহিদুর রমান :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে মো. সেলিম (৫০) নামে এক কৃষক দল নেতা নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে  ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের নং ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে ঘটনা ঘটে।

সুধারাম থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম তথ্য নিশ্চিত করে সাপ্তাহিক লাকসামকে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সিনিয়রজুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। সময় সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং আঘাত পেয়ে পড়ে যান। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের প্রয়াত মো. শাহজানের ছেলে। তিনি দাদপুর ইউনিয়নের নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। বাড়ির পাশে তার দোকান আছে।

নিহতের পরিবার স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সেলিমের ছোট ছেলে অন্তরের সঙ্গে একই এলাকার এক কিশোরের মধ্যে সিনিয়রজুনিয়র বিষয়ে কয়েকদিন আগে দ্বন্দ্ব হয়। সময় একে অপরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

এপ্রিল দুপুরে প্রথমে মোবাইলে অন্তরের সঙ্গে সেই কিশোরের বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর এদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই কিশোর আরও কয়েকজন কিশোরকে নিয়ে মো. সেলিমের বাড়ির সামনে এসে তার ছেলে অন্তরের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বাড়িতে এমন শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান সেলিম। সময় কিশোররা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে দ্রুত ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ছেলে শাকিল বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে কিশোর চক্রের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চাই।

বিষয়ে দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কৃষি কাজের পাশাপাশি বাড়ির পাশে দোকান করতেন সহজ সরল সেলিম। তিনি কৃষক দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। আমরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি।

নোয়াখালী জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব সদস্য সচিব জি এস আব্দুজ্জাহের হারুন বলেন, আমরা নোয়াখালী জেলা কৃষক দল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই এবং অনতিবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জোর দাবি জানাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কৃষকদলের নেতা নিহত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ কিশোর আটক

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের মারধরে মো. সেলিম (৫০) নামে এক কৃষক দল নেতা নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে  ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের নং ওয়ার্ডের গৌরিপুর গ্রামে ঘটনা ঘটে।

সুধারাম থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম তথ্য নিশ্চিত করে সাপ্তাহিক লাকসামকে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সিনিয়রজুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। সময় সেলিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং আঘাত পেয়ে পড়ে যান। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত মো. সেলিম ওই গ্রামের প্রয়াত মো. শাহজানের ছেলে। তিনি দাদপুর ইউনিয়নের নং ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি ছিলেন। বাড়ির পাশে তার দোকান আছে।

নিহতের পরিবার স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, সেলিমের ছোট ছেলে অন্তরের সঙ্গে একই এলাকার এক কিশোরের মধ্যে সিনিয়রজুনিয়র বিষয়ে কয়েকদিন আগে দ্বন্দ্ব হয়। সময় একে অপরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।

এপ্রিল দুপুরে প্রথমে মোবাইলে অন্তরের সঙ্গে সেই কিশোরের বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর এদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ওই কিশোর আরও কয়েকজন কিশোরকে নিয়ে মো. সেলিমের বাড়ির সামনে এসে তার ছেলে অন্তরের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সময় অন্তরের বড় ভাই শাকিল এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বাড়িতে এমন শোরগোল শুনে নিজের দোকান থেকে বের হয়ে ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান সেলিম। সময় কিশোররা তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত করে। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে দ্রুত ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের বড় ছেলে শাকিল বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে কিশোর চক্রের সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার চাই।

বিষয়ে দাদপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কৃষি কাজের পাশাপাশি বাড়ির পাশে দোকান করতেন সহজ সরল সেলিম। তিনি কৃষক দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। আমরা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছি।

নোয়াখালী জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব সদস্য সচিব জি এস আব্দুজ্জাহের হারুন বলেন, আমরা নোয়াখালী জেলা কৃষক দল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই এবং অনতিবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জোর দাবি জানাই।