ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দয়া বা অনুগ্রহ নয়, পিতা-মাতার ভরণপোষণ সন্তানের ধর্মীয় আইনি নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব আবুল কালাম পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবের সহসভাপতি নির্বাচিত, কুমিল্লা-৯ আসনে ব্যাপক উল্লাস লাকসামে গ্রাম্য আদালত সম্পর্কে পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা লাকসাম পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি ডা: নুরুল্লাহ রায়হানকে ফুলেল শুভেচ্ছা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হলেন লাকসামের এমপি পুত্র ইয়াছির মোহাম্মদ ফয়সাল  কিডনী রোগে আক্রান্ত রহমত উল্যাহ’র জন্য সহযোগীতা কামনা ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও বারা বাঁধে !! বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও কলাপাড়া উপজেলার কাউছার হামিদ ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগে এসআই ক্লোজড পুলিশের কার্যক্রম জোরদারে ২১২টি ডাবল কেবিন পিকআপ কিনছে সরকার

লাকসামে স্কুলশিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার :
  • আপডেট সময় : ০২:১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ ৮২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার লাকসামে পড়াশোনার জন্য মায়ের বকুনি খেয়ে অভিমানে সিনথিয়া উদ্দিন (১৪) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) লাকসামের একটি ভাড়া বাসা থেকে এ ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সিনথিয়া লালমাই উপজেলার সিংঙ্গরিয়া গ্রামের শাহাবুদ্দিনের মেয়ে। তিনি লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। লাকসামে মায়ের সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় তারা দুজন বসবাস করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে ‘চাচা-ভাতিজা ভিলা’ নামে একটি ভাড়া বাসার চতুর্থ তলায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত সিনথিয়া। ঘটনার দিন সকারে ৮টার দিকে কক্ষের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় তার মা অনেক ডাকাডাকি করেন, কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেতে পান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ওই শিক্ষার্থীর হাতে ব্লেড দিয়ে কাটার ৮-১০টি ক্ষত চিহ্ন পাওয়া রয়েছে।
একটি সূত্রে জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় তার মা তাকে ঠিকভাবে পড়াশোনার তাগিদ দেন এবং অহেতুক বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা না দেওয়ার জন্য একটু বকাঝকা করেন। এতে সে অভিমানে তার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এদিকে সিনথিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সহপাঠীরা তার বাসায় যায়। পরে মরদেহ নিজ বিদ্যাপীঠ লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আনা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সিনথিয়ার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক ও সহপাঠীরা। সহপাঠীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে স্কুল আঙ্গিনা। শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে শিক্ষকসহ ও অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং আশপাশের মানুষ। এ ব্যাপারে লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দিলিপ কুমার ভৌমিক জানান, বিদ্যালয়ে যতটুকু দেখেছি, সিনথিয়া অনেকটা চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে ছিল। কিন্তু সে আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটাবে ভাবতেই অবাক লাগে। ঘটনাটি একদম অনাকাঙ্ক্ষিত। সিনথিয়ার মা খালেদা আক্তার জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। সিনথিয়া একমাত্র মেয়ে। এ ছাড়া, তার একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। সন্তানদের পড়ালেখা ও নিজের চাকরির সুবাদে লাকসামে বাসা ভাড়া করে থাকেন তিনি। কিন্তু মেয়ে এমন ঘটনা ঘটাবে একথা ভাবতেই পারছি না, বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

লাকসামে স্কুলশিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ০২:১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

কুমিল্লার লাকসামে পড়াশোনার জন্য মায়ের বকুনি খেয়ে অভিমানে সিনথিয়া উদ্দিন (১৪) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) লাকসামের একটি ভাড়া বাসা থেকে এ ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সিনথিয়া লালমাই উপজেলার সিংঙ্গরিয়া গ্রামের শাহাবুদ্দিনের মেয়ে। তিনি লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। লাকসামে মায়ের সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় তারা দুজন বসবাস করতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে ‘চাচা-ভাতিজা ভিলা’ নামে একটি ভাড়া বাসার চতুর্থ তলায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত সিনথিয়া। ঘটনার দিন সকারে ৮টার দিকে কক্ষের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকায় তার মা অনেক ডাকাডাকি করেন, কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেতে পান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ওই শিক্ষার্থীর হাতে ব্লেড দিয়ে কাটার ৮-১০টি ক্ষত চিহ্ন পাওয়া রয়েছে।
একটি সূত্রে জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় তার মা তাকে ঠিকভাবে পড়াশোনার তাগিদ দেন এবং অহেতুক বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা না দেওয়ার জন্য একটু বকাঝকা করেন। এতে সে অভিমানে তার কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সকালে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এদিকে সিনথিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে সহপাঠীরা তার বাসায় যায়। পরে মরদেহ নিজ বিদ্যাপীঠ লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আনা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সিনথিয়ার নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক ও সহপাঠীরা। সহপাঠীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে স্কুল আঙ্গিনা। শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে শিক্ষকসহ ও অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং আশপাশের মানুষ। এ ব্যাপারে লাকসাম পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) দিলিপ কুমার ভৌমিক জানান, বিদ্যালয়ে যতটুকু দেখেছি, সিনথিয়া অনেকটা চুপচাপ স্বভাবের মেয়ে ছিল। কিন্তু সে আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটাবে ভাবতেই অবাক লাগে। ঘটনাটি একদম অনাকাঙ্ক্ষিত। সিনথিয়ার মা খালেদা আক্তার জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। সিনথিয়া একমাত্র মেয়ে। এ ছাড়া, তার একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। সন্তানদের পড়ালেখা ও নিজের চাকরির সুবাদে লাকসামে বাসা ভাড়া করে থাকেন তিনি। কিন্তু মেয়ে এমন ঘটনা ঘটাবে একথা ভাবতেই পারছি না, বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এই ব্যাপারে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।