ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লগি-বৈঠা হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে লাকসামে জামায়াতের বিক্ষোভ নয়নজলি ভরাট করে সরকারি সম্পত্তি দখল:  জব্দকৃত মাটি নিলামের ঘোষণা — ইউএনও’র  লাকসামের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এ কে এম ফজলুল হকের ইন্তেকাল মোহাম্মদপুরে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিধান কাশিমপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসের গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ৯ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণ ঢাকা–কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস, লাকসামে যাত্রাবিরতি – লাকসামের জন্য টিকিট বাড়ানোর দাবি যাত্রীদের লাকসাম গাজীমুড়া দারুল কোরআন মাদ্রাসায় বার্ষিক মাহফিল, ৯ হাফেজকে পাগড়ি প্রদান ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান লাকসামে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাইফুল ইসলামের সমর্থনে বিএনপির মতবিনিময় সভা লাকসামে শারদীয় দূর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসঃ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সবার সদিচ্ছা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা

কুমিল্লা মাউশি পরিচালকের ঘুষ বাণিজ্য লাকসাম উপজেলাসহ চার জেলায় সমালোচনার ঝড়

শহীদুল ইসলাম শাহীন:
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের অধীন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলা। সাড়ে তিন মাস আগে এ আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার। চলতি মাসে শুরু করেছেন বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন। পরিদর্শনের নামে শুরু করেছেন সম্মানি বাণিজ্য’।

এতে আতঙ্কে রয়েছেন চার জেলার মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের প্রধানরা। তা নিয়ে বিব্রতরোধ করছেন কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১১ অক্টোবর পরিচালক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের নেতৃত্বে উপপরিচালক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান। প্রথমে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিচালক বকাবকি শুরু করেন। এভাবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বিব্রত করার পর সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে সম্মানির নামে ঘুষ চান।
‘আজগরা উচ্চ বিদ্যালয়ে’ অধ্যক্ষের কাছে ৪০ হাজার চাওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানপ্রধান তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা শিগগিরই পরিশোধ করবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন।
যার প্রমাণ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া বরুড়া উপজেলায় যাওয়ার আগে ফোনে জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা করে সম্মানি রাখতে। অনিয়ম থাকলে সেই অঙ্ক আরও বাড়বে। বেশি হইচই করেছেন
লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে। আঞ্চলিক কার্যালয়ে এমন কাণ্ডে চার জেলার ২৯৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কলেজের প্রধানদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি কলেজের অধ্যক্ষ ও একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘দীর্ঘ চাকরিজীবনে এমন পরিচালক দেখিনি। কোনো তদন্ত নেই, কাগজপত্র দেখার নাম নেই, এসেই দুর্ব্যবহার। তারপর শুরু হয় সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে সম্মানির নামে ঘুষ চাওয়া। চাকরি করি তাই বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে। ’ লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষককে দায়িত্ব অবহেলা অসদাচরণসহ নানান অনিয়মে বহিষ্কার করে ম্যানেজিং কমিটি। এ নিয়ে তাঁরা তদন্তে আসেন। পরিচালক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার কাগজপত্র না দেখে অধ্যক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। এ ছাড়া তিনি শিক্ষকদের সামনে তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করেন।অথচ আমাদের প্রতিষ্ঠানটি জেলার সেরা। একপর্যায়ে এক কক্ষে শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতো পরীক্ষা নেন। এমন তদন্ত কখনো দেখিনি। বেলা সোয়া ৩টায় এসে সন্ধ্যা ৭টায় বের হন তাঁরা। শেষে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে দিয়ে আমার সামনে অধ্যক্ষের কাছে ঘুষ চান। প্রথমে ৩২ হাজার টাকা দাবি করেন। জসিম উদ্দিন বলেন আরেক প্রতিষ্ঠান ৩২ হাজার দিয়েছে, আপনি সেটাই দেন। পরে বলেন, ২০ হাজার টাকা দিলেও হবে। অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার বলেন, ‘আমি ফোনে এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না, আপনি অফিসে এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লা মাউশি পরিচালকের ঘুষ বাণিজ্য লাকসাম উপজেলাসহ চার জেলায় সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় : ০১:১৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কুমিল্লা অঞ্চলের অধীন কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও লক্ষ্মীপুর জেলা। সাড়ে তিন মাস আগে এ আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার। চলতি মাসে শুরু করেছেন বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন। পরিদর্শনের নামে শুরু করেছেন সম্মানি বাণিজ্য’।

এতে আতঙ্কে রয়েছেন চার জেলার মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজের প্রধানরা। তা নিয়ে বিব্রতরোধ করছেন কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১১ অক্টোবর পরিচালক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের নেতৃত্বে উপপরিচালক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান, গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ও সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন লাকসাম-মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যান। প্রথমে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরিচালক বকাবকি শুরু করেন। এভাবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে বিব্রত করার পর সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে সম্মানির নামে ঘুষ চান।
‘আজগরা উচ্চ বিদ্যালয়ে’ অধ্যক্ষের কাছে ৪০ হাজার চাওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানপ্রধান তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা দেন। বাকি টাকা শিগগিরই পরিশোধ করবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন।
যার প্রমাণ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া বরুড়া উপজেলায় যাওয়ার আগে ফোনে জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা করে সম্মানি রাখতে। অনিয়ম থাকলে সেই অঙ্ক আরও বাড়বে। বেশি হইচই করেছেন
লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে। আঞ্চলিক কার্যালয়ে এমন কাণ্ডে চার জেলার ২৯৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কলেজের প্রধানদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুটি কলেজের অধ্যক্ষ ও একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘দীর্ঘ চাকরিজীবনে এমন পরিচালক দেখিনি। কোনো তদন্ত নেই, কাগজপত্র দেখার নাম নেই, এসেই দুর্ব্যবহার। তারপর শুরু হয় সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে সম্মানির নামে ঘুষ চাওয়া। চাকরি করি তাই বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে। ’ লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের একজন শিক্ষককে দায়িত্ব অবহেলা অসদাচরণসহ নানান অনিয়মে বহিষ্কার করে ম্যানেজিং কমিটি। এ নিয়ে তাঁরা তদন্তে আসেন। পরিচালক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার কাগজপত্র না দেখে অধ্যক্ষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। এ ছাড়া তিনি শিক্ষকদের সামনে তাঁকে নিয়ে কটূক্তি করেন।অথচ আমাদের প্রতিষ্ঠানটি জেলার সেরা। একপর্যায়ে এক কক্ষে শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতো পরীক্ষা নেন। এমন তদন্ত কখনো দেখিনি। বেলা সোয়া ৩টায় এসে সন্ধ্যা ৭টায় বের হন তাঁরা। শেষে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে দিয়ে আমার সামনে অধ্যক্ষের কাছে ঘুষ চান। প্রথমে ৩২ হাজার টাকা দাবি করেন। জসিম উদ্দিন বলেন আরেক প্রতিষ্ঠান ৩২ হাজার দিয়েছে, আপনি সেটাই দেন। পরে বলেন, ২০ হাজার টাকা দিলেও হবে। অভিযোগের বিষয়ে পরিচালক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার বলেন, ‘আমি ফোনে এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না, আপনি অফিসে এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলব।