‘অসুরক্ষা’ দলিল ! ৩২ কোটি টাকার বায়নানামা : বিপাকে বিনিয়োগকারীরা
- আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় ২৮ শতক জায়গার উপর অবস্থিত ‘সুরক্ষা সিটি হাসপাতাল’ এর এই জায়গাটি নিয়ে রয়েছে আইনি জটিলতা। একদিকে হাসপাতালের জমিটি আর এস ১ নম্বর সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। অন্যদিকে ইমারতসহ সুরক্ষা হাসপাতালের সকল যন্ত্রপাতি ও মালামাল ৩২ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারণ করে নগদ ৫ কোটি টাকা নিয়ে বায়নাপত্র সম্পাদন করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
এর ফলে সহশ্রাদিক বিনিয়োগকারীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অন্ধকারের মুখে পড়েছে।
অনুসন্ধানে এবং সম্প্রতি বায়নাপত্র দলিল (তারিখ: ০৮/০৪/২০২৪ ইং) থেকে জানা যায়, লাকসাম ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামান উক্ত ২৮ শতক জমি এবং ৯ তলা কমপ্লিট ইমারতসহ সুরক্ষা হাসপাতালের সকল যন্ত্রপাতি ও মালামাল মোট ৩২ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারণ করে দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, সুমন ও মোঃ মিরাজুল ইসলাম নামীয় চার ব্যক্তির বরাবরে হস্তান্তরের জন্য বায়নাপত্র সম্পাদন করেন। চুক্তি অনুযায়ী নগদ ৫ কোটি টাকা বায়না বাবদ গ্রহণও করা হয়।
কিন্তু চরম বাস্তবতার বিষয় হলো, সুরক্ষা সিটি হাসপাতালটি যে ২৮ শতক জায়গার ওপর নির্মিত, সেটি মূলত সরকারের আরএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমি। বিএস জরিপে (খতিয়ান নং ৬৫৯, দাগ নং ৫৪৬৭) জমিটি জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় চলে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই সরকার পক্ষ খতিয়ানের বিরুদ্ধে আদালতে ৯৩/২৫ নম্বরে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছে, যা বর্তমানে চলমান। সরকারি খাস জমি হওয়া সত্ত্বেও দলিলের হলফনামায় সম্পত্তিটি “সরকারি বা খাস নয়” বলে সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য দিয়ে এই কোটি কোটি টাকার বায়নানামা সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালের জমি ও ভবন নিয়ে এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং মালিকানা হস্তান্তরের গোপন নথির আড়ালে ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোখধাঁধানো প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী অংশীদারেরা এখানে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এখন জমি সরকারি খাস খতিয়ানের আওতাভুক্ত হওয়া এবং ভেতরে ভেতরে সম্পত্তি বিক্রির বায়নানামা চলায় পুরো হাসপাতালটির অস্তিত্বই সংকটে পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ পাওয়া তো দূরের কথা, তাদের আসল টাকার মুখও দেখছেন না।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ভুক্তভোগী সাধারণ বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের একাংশ সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকট এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
এসব অভিযোগকে গুরুত্ব নাদিয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের এমডি আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কমিটির সদস্য ২০০-এর বেশি। এর মধ্যে ৫৫ জনের অ্যাডহক কমিটি রয়েছে। একজন সদস্য প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটির পর অফিস সম্মানি’র টাকা বন্ধ করায় তিনি পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগকারীদের মাসের লভ্যাংশ দেওয়া হবে। পরিচালকদের ৫ হাজার ও সাধারণ শেয়ার হোল্ডারদের ২ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।বিনিয়োগকারীদের জামানত ও যে কোনো বিষয়ে জানতে সরাসরি অফিসে এসে প্রশ্ন করতে পারেন। যারা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাকসামের সচেতন মহল মনে করছেন, একটি নামী হাসপাতালের আড়ালে এমন সরকারি ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারি খাস জমি উদ্ধার এবং নিঃস্ব হওয়া সাধারণ মানুষের বিনিয়োগের টাকা ফেরত নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও উচ্চপর্যায়ের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অবিলম্বে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।











