লাকসাম-এ বেড়েছে মশার উপদ্রব, নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি
- আপডেট সময় : ০৪:১১:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে
লাকসাম পৌরসভা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামলেই বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়কঘাটে মশার ঝাঁক দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আতঙ্ক। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। পৌর এলাকার গন্ডামারা, বাইপাস, জোড়পুল ও স্টেশন রোড এলাকায় সন্ধ্যার পর বাইরে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে অভিযোগ করেন, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম না থাকায় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
একাধিক বাসিন্দা বলেন, ড্রেনগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে, কোথাও কোথাও পানি দীর্ঘদিন ধরে স্থির হয়ে রয়েছে। এসব জায়গা মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনের খোলা জায়গায় জমে থাকা পানিও মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এসেছে। যদিও এখনো বড় ধরনের কোনো প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা—ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সময় সচেতনতা ও দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে ফগিং করা হলেও তা নিয়মিত নয় এবং অনেক এলাকায় পৌঁছায় না। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা জানান, সীমিত জনবল ও সরঞ্জামের কারণে সব এলাকায় একসঙ্গে কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব শিগগিরই বিশেষ মশক নিধন অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তারা।
এদিকে সাধারণ মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান। তাদের দাবি—নিয়মিত ফগিং, ড্রেন পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রম চালু করা হোক। পাশাপাশি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে বাসিন্দাদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
সব মিলিয়ে, লাকসামে মশার বাড়বাড়ন্ত এখন কেবল ভোগান্তির বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও একটি সম্ভাব্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















