ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নবাব ফয়জুন্নেছা কলেজ ও ওয়াকফ সম্পদ সংরক্ষণের দাবীতে মানববন্ধন উত্তরদা ইউনিয়নে আহসান উল্লাহকে ঘিরে ব্যাপক উদ্দীপনা ৪১ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া মিলেনি ! বুড়িচংয়ে তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে !! জরাজীর্ণ ভবনে আতঙ্কে পাঠদান লাকসামে বিভিন্ন জলাশয়ে ও পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত লাকসামে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন আয়েশা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বৃক্ষরোপন লাকসামে খেলাফত মজলিস’র বিক্ষোভ মিছিল লাকসামে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে প্রকাশ্যে ‘ডিম থেরাপী’: লাকসামে এমপি আবুল কালাম লাকসামে গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদুল ফিতরে উদযাপন করেছে প্রায় আড়াই হাজার বন্দি

ডেস্ক রিপোর্ট :
  • আপডেট সময় : ১০:২২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬ ১৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নানা আয়োজনে ২২ মার্চ  শনিবার  কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদুল ফিতরে উদযাপন করেছে প্রায় আড়াই হাজার বন্দি। সবার জন্য ছিল ঈদের নতুন পোষাক, নারী বন্দিদের মেহেদী উৎসব, উন্নত খাবার, স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা, বাড়ির খাবার গ্রহণ, মোবাইলে কথা বলার সুযোগ, কারাগারের ভেতর ঈদের নামাজ আদায় সবই ছিল এবারের ঈদ আয়োজনে। বন্দির স্বজনদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। কারাগার কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কারাগার সূত্র জানায়, এবারের ঈদের আগের দিন বন্দিদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণের মাধ্যমে ঈদ উদযাপনের সূচনা হয়। পোশাকের ভেতরে ছিলো পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, শাড়ি ও মায়ের সঙ্গে থাকা শিশু বাচ্চাদের পোশাক। মহিলা বন্দিদের জন্য ছিল মেহেদী উৎসবের আয়োজন। সঙ্গে বিভিন্ন কসমেটিক্স হিসেবে নেইল পালিশ, লিপিস্টিক, মেকআপ বক্স বিতরণ করা হয়। বিশেষ খাবারের আয়োজন শুরু হয় ঈদের আগের দিন রাত থেকেই।

সারা দিনব্যাপী সব উপক্রম উপকরণ সংগ্রহ করা হয়। সন্ধ্যার সময় গরু ও খাসি জবাই কর হয়। সারারাত ধরে শুরু হয় কাটাকাটি, মশলা বাটা বাটি, রান্নাবান্নার আয়োজন। বন্দিদের জন্য সকালের নাস্তা ছিল পায়েস ও মুড়ি। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, রোস্ট, খাসির মাংস, গরুর মাংস, কোমল পানীয়, মিষ্টি, পান সুপারি ও সালাদ। রাতের খাবারে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজি, আলুর দম, মুরগি ও ছোলার ডাল দিয়ে লটপটি।

বন্দিদের ঈদের দুটি জামাতে নামাজ পড়ানো হয়। সেখানে শুধু বন্দিরাই নামাজ পড়েনি, সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারারক্ষীরাও একই কাতারে মিলেমিশে ঈদের নামাজ আদায় করেন। একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় এবং সকাল সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় জামাত। বিশেষ এই দিনে বন্দিদের স্বজনরা অনেকেই এসেছেন বাড়ির খাবার নিয়ে বন্দিদের সাথে দেখা করতে। সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে দেওয়া হয় বেলুন, চকলেট, লজেন্স এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি যা, ঈদের আমেজকে বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য ছিল স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প। বন্দীরা ঈদ উপলক্ষে পাঁচ মিনিট মোবাইলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। বিকেলে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখানে নিজেরা নিজেদের মতো করে ঈদ আনন্দ করে সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নেন বন্দি এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, ‘ঈদে বন্দিদের জন্য শুধু উন্নত মানের খাবার আর নতুন পোশাকই উপহার দেওয়াই নয়, ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে কারা কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এমন আয়োজনে বন্দি ও কারা কর্তৃপক্ষ সবাই খুশি।’

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার হালিমা খাতুন  বলেন, ১০০ নারী বন্দিসহ প্রায় আড়াই হাজার বন্দি ঈদ উদযাপন করেছে। তারা বাড়িতে যেভাবে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতেন আমরা চেষ্টা করছি সেই আমেজ তাদের উপহার দিতে। শুধু ভাল খাবার দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ঈদের ২/৩টি দিন কারাগারে বন্দিরা যেন স্বজনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ট ভুলে থাকতে পারে আমরা (কারা কর্তৃপক্ষ) বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টাই করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদুল ফিতরে উদযাপন করেছে প্রায় আড়াই হাজার বন্দি

আপডেট সময় : ১০:২২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

নানা আয়োজনে ২২ মার্চ  শনিবার  কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদুল ফিতরে উদযাপন করেছে প্রায় আড়াই হাজার বন্দি। সবার জন্য ছিল ঈদের নতুন পোষাক, নারী বন্দিদের মেহেদী উৎসব, উন্নত খাবার, স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা, বাড়ির খাবার গ্রহণ, মোবাইলে কথা বলার সুযোগ, কারাগারের ভেতর ঈদের নামাজ আদায় সবই ছিল এবারের ঈদ আয়োজনে। বন্দির স্বজনদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। কারাগার কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কারাগার সূত্র জানায়, এবারের ঈদের আগের দিন বন্দিদের মাঝে নতুন পোশাক বিতরণের মাধ্যমে ঈদ উদযাপনের সূচনা হয়। পোশাকের ভেতরে ছিলো পাঞ্জাবি, লুঙ্গি, শাড়ি ও মায়ের সঙ্গে থাকা শিশু বাচ্চাদের পোশাক। মহিলা বন্দিদের জন্য ছিল মেহেদী উৎসবের আয়োজন। সঙ্গে বিভিন্ন কসমেটিক্স হিসেবে নেইল পালিশ, লিপিস্টিক, মেকআপ বক্স বিতরণ করা হয়। বিশেষ খাবারের আয়োজন শুরু হয় ঈদের আগের দিন রাত থেকেই।

সারা দিনব্যাপী সব উপক্রম উপকরণ সংগ্রহ করা হয়। সন্ধ্যার সময় গরু ও খাসি জবাই কর হয়। সারারাত ধরে শুরু হয় কাটাকাটি, মশলা বাটা বাটি, রান্নাবান্নার আয়োজন। বন্দিদের জন্য সকালের নাস্তা ছিল পায়েস ও মুড়ি। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, রোস্ট, খাসির মাংস, গরুর মাংস, কোমল পানীয়, মিষ্টি, পান সুপারি ও সালাদ। রাতের খাবারে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজি, আলুর দম, মুরগি ও ছোলার ডাল দিয়ে লটপটি।

বন্দিদের ঈদের দুটি জামাতে নামাজ পড়ানো হয়। সেখানে শুধু বন্দিরাই নামাজ পড়েনি, সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারারক্ষীরাও একই কাতারে মিলেমিশে ঈদের নামাজ আদায় করেন। একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায় এবং সকাল সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় জামাত। বিশেষ এই দিনে বন্দিদের স্বজনরা অনেকেই এসেছেন বাড়ির খাবার নিয়ে বন্দিদের সাথে দেখা করতে। সবাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে দেওয়া হয় বেলুন, চকলেট, লজেন্স এবং বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি যা, ঈদের আমেজকে বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য ছিল স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প। বন্দীরা ঈদ উপলক্ষে পাঁচ মিনিট মোবাইলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। বিকেলে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এখানে নিজেরা নিজেদের মতো করে ঈদ আনন্দ করে সবার মাঝে ভাগাভাগি করে নেন বন্দি এবং কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও সাংবাদিক জাহিদ হাসান বলেন, ‘ঈদে বন্দিদের জন্য শুধু উন্নত মানের খাবার আর নতুন পোশাকই উপহার দেওয়াই নয়, ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে কারা কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এমন আয়োজনে বন্দি ও কারা কর্তৃপক্ষ সবাই খুশি।’

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার হালিমা খাতুন  বলেন, ১০০ নারী বন্দিসহ প্রায় আড়াই হাজার বন্দি ঈদ উদযাপন করেছে। তারা বাড়িতে যেভাবে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতেন আমরা চেষ্টা করছি সেই আমেজ তাদের উপহার দিতে। শুধু ভাল খাবার দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ঈদের ২/৩টি দিন কারাগারে বন্দিরা যেন স্বজনদের থেকে দূরে থাকার কষ্ট ভুলে থাকতে পারে আমরা (কারা কর্তৃপক্ষ) বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টাই করছি।