ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে প্রকাশ্যে ‘ডিম থেরাপী’: লাকসামে এমপি আবুল কালাম লাকসামে গ্রীষ্মকালীন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ লাকসামে এসএসসি ও সমমানের  পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা বিএনপি কাহারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়, এটা একটি আদর্শের নাম !! মনোহরগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে —-আবুল কালাম এম পি লাকসামে আলহাজ্ব আবদুল মতিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত বিশেষ প্রতিবেদন !! লাকসাম পৌর নির্বাচনী আমেজ মজির আহমেদকে ঘিরে তৃণমূলে উদ্দীপনা সংগঠনের শীর্ষ কোনো পদ থাকবেনা মন্ত্রী,এমপিদের ‘’এক নেতা-এক পদ’’ নীতিতে বিএনপি কুমিল্লায় ‘একাডেমি ফর প্রেস অ্যান্ড মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট’ এর আত্মপ্রকাশ: মহিউদ্দিন মোল্লা সভাপতি, জাহিদ  পাটোয়ারী সাধারণ সম্পাদক বৈষম্যহীন, মডেল ইউনিয়ন বিনির্মানে – উত্তর হাওলার হাল ধরতে চান — হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাসনাবাদ ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল হিসেবে গড়তে চান আনোয়ার হোসেন

ছয় মাসের ভাবমূর্তি ও কর্মদক্ষতা অনুযায়ী কাজের মূল্যায়ন মানদণ্ডে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়ে-যে কয়জনের নাম মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে

নুরউদ্দিন জালাল আজাদ :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৬ আগস্ট বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস পূর্ণ হবে। জোর আলোচনা চলছে- ছয় মাস পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে। ছয় মাসের ভাবমূর্তি ও কর্মদক্ষতা অনুযায়ী মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন করবেন তারেক রহমান। আর এ মানদণ্ডে কেউ কেউ মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন।

বাদ পড়াদের জায়গায় দলের সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের যদি রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার হিসাবে মনোনীত না করা হয়, তবে তাদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এছাড়া সমমনা দলগুলো থেকে কয়েকজনের নাম মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

জানা যায়, বিএনপি স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় আছে। এছাড়া মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে নতুন করে জায়গা পেতে পারেন-বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ও রকিবুল ইসলাম বকুল, বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এছাড়া সমমনা দলগুলো থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নামও আলোচনায় আছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ১২ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেক দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এসব দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের ‘পারফরম্যান্স’ ও আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে সরকারের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা রয়েছে। এজন্য তাদের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাদের কাউকেই মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার বদলে ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দলের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলোর পদক্ষেপ ও অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষমতা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নেওয়া পদক্ষেপ, সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় সংসদে মন্ত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি।

জানা যায়, কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের আচরণ, সময়ানুবর্তিতা এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, নিজস্ব কঠোর মানদণ্ড, সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মূল্যায়ন ও পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আলোচনা আছে।

গত ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন, একটি উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছেন। যেটুকু ওনার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বুঝি, ওনার যদি কখনো মনে হয় কেউ ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না তার জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন বা নতুন কাউকে দেওয়া, এগুলো যদি প্রয়োজন হয়, সেটা তিনি করবেন।’

তিনি আরও বলেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে আমার এমনটাই মনে হয়েছে। এটা এখন ১৮০ দিনের (সরকারের ১৮০ দিন) পরপর হবে, নাকি তার চেয়ে একটু সময় লাগবে, এটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ছয় মাসের ভাবমূর্তি ও কর্মদক্ষতা অনুযায়ী কাজের মূল্যায়ন মানদণ্ডে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়ে-যে কয়জনের নাম মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে

আপডেট সময় : ১১:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

১৬ আগস্ট বিএনপি সরকারের প্রথম ৬ মাস পূর্ণ হবে। জোর আলোচনা চলছে- ছয় মাস পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে। ছয় মাসের ভাবমূর্তি ও কর্মদক্ষতা অনুযায়ী মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়ন করবেন তারেক রহমান। আর এ মানদণ্ডে কেউ কেউ মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন।

বাদ পড়াদের জায়গায় দলের সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। সিনিয়র নেতাদের মধ্যে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের যদি রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার হিসাবে মনোনীত না করা হয়, তবে তাদেরও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এছাড়া সমমনা দলগুলো থেকে কয়েকজনের নাম মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

জানা যায়, বিএনপি স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় আছে। এছাড়া মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে নতুন করে জায়গা পেতে পারেন-বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান ও রকিবুল ইসলাম বকুল, বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম।

এছাড়া সমমনা দলগুলো থেকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নামও আলোচনায় আছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অন্তত ১২ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেক দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় এসব দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কয়েকজনের ‘পারফরম্যান্স’ ও আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে সরকারের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা রয়েছে। এজন্য তাদের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাদের কাউকেই মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার বদলে ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দলের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী মন্ত্রণালয়গুলোর পদক্ষেপ ও অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে দ্রুত ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষমতা, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে নেওয়া পদক্ষেপ, সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় সংসদে মন্ত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি।

জানা যায়, কয়েকটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের আচরণ, সময়ানুবর্তিতা এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, নিজস্ব কঠোর মানদণ্ড, সুশাসন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মূল্যায়ন ও পুনর্গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আলোচনা আছে।

গত ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি মন্ত্রিসভা তৈরি করেছেন, একটি উপদেষ্টা পরিষদ তৈরি করেছেন। যেটুকু ওনার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আমি বুঝি, ওনার যদি কখনো মনে হয় কেউ ভালো পারফর্ম করতে পারছেন না তার জায়গায় দপ্তর পুনর্বণ্টন বা নতুন কাউকে দেওয়া, এগুলো যদি প্রয়োজন হয়, সেটা তিনি করবেন।’

তিনি আরও বলেন, তার (প্রধানমন্ত্রী) সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলে আমার এমনটাই মনে হয়েছে। এটা এখন ১৮০ দিনের (সরকারের ১৮০ দিন) পরপর হবে, নাকি তার চেয়ে একটু সময় লাগবে, এটা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।