লাকসামে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠণ !! এক প্রকৌশলী বরখাস্ত
- আপডেট সময় : ০১:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফূলী ট্রেন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে। রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন-১) আবু ইমতিয়াজ রাফি, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই-ক্যারেজ) আবদুল্লাহ আল মাসুদ, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই- লোকো) রেজওয়ানুল ইসলাম এবং বিভাগীয় সিগন্যাল ।
ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় রেলওয়ের প্রকৌশলী মো. গোলাম সারোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গাফিলতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে তদন্ত কমিটির প্রধান ফারহান মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। বরখাস্ত হওয়া গোলাম সারোয়ার ফেনীর জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনটি বুধবার দুপুরে লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ইঞ্জিনসহ চারটি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ট্রেনটির উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
ট্রেনটির চালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রেলপথে সংস্কারকাজ চলার বিষয়ে তাকে আগে জানানো হয়নি।
লাকসাম রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কর্ণফূলী কমিউডার (৩ আপ) ট্রেন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। দুর্ঘটনায় ইঞ্জিন ছাড়াও আরো চারটি বগির চাকা লাইনচ্যূত এবং কাত হয়ে যায়।
এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কমপক্ষে ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিক তাঁদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। তবে দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
লাকসাম রেলওয়ের জংশনের স্টেশন মাস্টার (এসএম) মো. ওমর ফারুক ভূঁইয়া ট্রেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বেসরকারি খাতে পরিচালিত চট্টগ্রাম থেকে কমপক্ষে ৭৫০ থেকে ৮০০ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কর্ণফূলি কমিউডার ট্রেনটি নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটার সিগন্যাল পার হওয়ার আগেই হঠাৎ বিকট শব্দে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
এতে ইঞ্জিন ও চারটি বগির চাকা লাইনচ্যূত এবং কাত হয়ে যায়।
তিনি জানান, ওই সময় রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। দুপুর ১২:২০ মিনিটে ট্রেনটি পূর্বের রেলস্টেশন নাঙ্গলকোট থেকে ছেড়ে আসে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নাওটি রেলস্টেশনটি বন্ধ থাকায় সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। এ ছাড়া ওই রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতি না থাকায় ট্রেনটি নাওটি রেলস্টেশন অতিক্রম করে ডাউন লাইনের আউটার সিগন্যালের কাছাকাছি গিয়ে আপ লাইনে দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকাগামী কর্ণফূলী ট্রেনটি আউটার সিগন্যালের কাছে এসে বিকট শব্দে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ কয়েকটি বগির চাকা লাইনচ্যূত এবং কাত হয়ে যায়। এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে নারী ও শিশুসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় সুখতলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এবং লাকসাম হাসপাতালে পাঠায়। তাঁরা বলেন, বড় ধরণের একটি দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন কয়েক শত যাত্রী। দুর্ঘটনার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন ওইসব যাত্রীরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) ফারহান মাহমুদ জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার (৩ আপ) ট্রেন লাকসাম-নাঙ্গলকোট সেকশনে (কিঃমিঃ ১২২/৭-৮) দুপুর ১২:৩৫ মিনিটে দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ওই ট্রেনের ২৭০৮ নম্বর ইঞ্জিনের পেছনের তিনটি চাকা লাইনচ্যূত হয়।
এ ছাড়া ১৭২৭ নম্বর বগির চারটি চাকা, ১৮৯০ নম্বর বগির সব চাকা লাইনচ্যূত এবং কাত হয়ে যায়। ১৮৭০ এবং ২১৯৩ নম্বর বগি দু’টি পুরো কাত হয়ে যায়।

















